বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬

গাইবান্ধা এলজিইডিতে এক পদে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, সেবায় ভো’গা’ন্তি

গাইবান্ধা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে একই সময়ে দুই নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা। দ্রুত এ জটিলতার সমাধান করে স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলজিইডি কার্যালয় ও ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের জন্য কার্যালয়ে গেলেও অনেক ঠিকাদার নির্বাহী প্রকৌশলীকে না পেয়ে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে চলমান প্রকল্প ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

অফিস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আবদুল আজিজ যোগদান করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর আগে দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো দাপ্তরিক নির্দেশনা পাননি। যদিও দুই কর্মকর্তাকেই বিভিন্ন সময় অফিসে দেখা যাচ্ছে বলে তারা জানান।

কার্যালয়ের ভেতরেও এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য মিলছে। কেউ বলছেন, আগের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়মিত অফিসে আসছেন না। আবার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দাবি, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। পরস্পরবিরোধী এসব বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ঠিকাদার বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীকে না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজ আটকে রয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করা উচিত।

জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের স্টেনোগ্রাফার নিজাম উদ্দিন ও অফিস সহকারী নাছিমা আক্তার বলেন, তারা প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে আসেন। তবে দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকেই নিয়মিত অফিসে দেখতে পান না। এর বাইরে তারা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন বলেন, নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগদানের বিষয়ে তিনি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি। তবে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানেন।

নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ বলেন, তিনি এক সপ্তাহ আগে গাইবান্ধায় যোগদান করেছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে পাননি।

অন্যদিকে বদলিকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ জুলাই তার বদলির আদেশ জারি হয় এবং ১৬ জুলাই ই-মেইলে সেটি হাতে পান। তিনি জানান, গাইবান্ধায় তার কর্মকাল মাত্র আট মাস হয়েছে। সাধারণত এক থেকে তিন বছর পর বদলি হলেও এবার হঠাৎ বদলি হওয়ায় পারিবারিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেয়ের পড়াশোনা, পারিবারিক বিষয় এবং দাপ্তরিক নথিপত্র হস্তান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো নতুন কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় সময় চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ অবস্থায় দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে এলজিইডি কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ