
সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ ভোমরা স্থলবন্দরের কাস্টমস কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের মধ্যে কাস্টমস কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমানের দায়িত্ব পালন নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভোমরা কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পণ্য ছাড়করণ, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভাষ্য, একটি অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই নতুন অভিযোগ সামনে আসছে। এতে ভোমরা কাস্টমসের সামগ্রিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মুশফিকুর রহমানের দায়িত্বকাল নিয়ে যাচাইয়ের দাবি
অভিযোগকারীরা বলছেন, কাস্টমস কর্মকর্তা মো. মুশফিকুর রহমান দায়িত্ব পালনকালে যেসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে তাঁর দায়িত্বকালে পণ্য ছাড়ের নথি, পণ্যের মূল্যায়ন-সংক্রান্ত কাগজপত্র, আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে হলে শুধু মৌখিক অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও রেকর্ড যাচাই করা জরুরি।
তবে মো. মুশফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ভোমরা কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ভোমরা কাস্টমসকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়গুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হচ্ছে কি না—এ প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহলের অনেকে।
তাদের দাবি, তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে একদিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে ভিত্তিহীন অভিযোগেরও অবসান হবে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার ভোমরা স্থলবন্দর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এখানকার কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই মো. মুশফিকুর রহমানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগসহ ভোমরা কাস্টমসের সামগ্রিক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে যাচাই ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা কী, নাকি এসবের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।

