
মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি মডেল থানায় কর্মরত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করেন। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসাইন (বিপি নং-৮৮০৭১২২৩৪৪), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল্লাহ (বিপি নং-৮৪০৩১১১৪৯১), কনস্টেবল শরিফ উদ্দিন (বিপি নং-৯৬১৫১৭৮৭৩৭), গাড়িচালক নজরুল ইসলাম (বিপি নং-৮২০১০৮৮৪১৮) এবং কনস্টেবল ইসতিয়াক (বিপি নং-৯৪১৪১৬৯৪৪৪)।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ জুলাই। ওই দিন শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলি বাজারে স্থানীয় লোকজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমানকে আটক করেন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি তদন্তে নামে জেলা পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাহরাস্তি মডেল থানায় কর্মরত ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে তদন্ত চলাকালীন গত ৩ আগস্ট এএসআই শহিদুল্লাহ এবং ৫ আগস্ট কনস্টেবল শরিফ উদ্দিনকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদেরসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত তদন্তে তারা দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

