
ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি, চাঁদা দাবি এবং আসামির স্বজনদের নির্যাতনের অভিযোগে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
১৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাহাবুবুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (এএসপি) নিচে নয়—এমন পদমর্যাদার কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম।
মামলায় সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম (৫৪) বাদী হয়ে এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহকে প্রধান আসামি করেছেন। এ ছাড়া এজাহারনামীয় আরও দুই ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বাদীর ছেলে শামীম রেজার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে এসআই নেয়ামত উল্লাহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে দুটি দামি আইফোন চাঁদা হিসেবে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারের আগে দুই দফায় মোট সাড়ে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও মামলার এজাহারে দাবি করেছেন বাদী।
এজাহারে আরও বলা হয়, শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি এসআই নেয়ামত উল্লাহ আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহকে ঘিরে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ সামনে আসার কথা জানা গেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও মামলার বাদীপক্ষের দাবি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তারা।
ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মামলার বাদী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাভার আমলি আদালতে উপস্থিত হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের এই নির্দেশের পর এসআই নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পিবিআইয়ের তদন্তে যাচাই হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

