
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা বিষ, যানবাহন ও অন্যান্য জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট দুপুরে চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, র্যাব-১৩ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এ অভিযান চালায়।
অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি কাচের জারে রাখা আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম বিক্রয় নিষিদ্ধ সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মুঠোফোন ও ছয়টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—চিরিরবন্দর উপজেলার দামুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), দিনাজপুর সদর উপজেলার ছোট গুড়গোলা গ্রামের মো. সালাউদ্দিন সান্জু (৪১), ফুলবাড়ী উপজেলার খেতদিঘী গ্রামের মো. আনিছুর রহমান (৫৫) এবং বিরামপুর উপজেলার কুন্দনহাট গ্রামের উজ্জল আলী (৫৪)।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচার করেছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এবারও উদ্ধার করা বিষ বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছে বিজিবি।
উদ্ধার করা সাপের বিষ, জব্দ করা গাড়ি, মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও অন্যান্য মালামালের মোট জব্দমূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অভিযানের দিনই আটক চারজনকে উদ্ধার করা মালামালসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরে আদালতের নির্দেশে গত ১৯ আগস্ট হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে উদ্ধার করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নমুনাটি সাপের বিষ বলে শনাক্ত হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, মূল্যবান সম্পদ, বন্যপ্রাণীজাত পণ্যসহ যেকোনো অবৈধ দ্রব্যের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্রসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবির কার্যক্রম চলমান থাকবে।

