Tuesday, August 18, 2026

দারাজের বিরুদ্ধে মা’দ’ক মা’ম’লা, সিবিডি অয়েলে টিএইচসি পাওয়ার অভিযোগ

অনলাইনে মাদক বিক্রির অভিযোগে বহুল ব্যবহৃত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকা থেকে আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও লেনদেনকে অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনের আওতায় এটিই প্রথম মামলা বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধিত ধারার ৩৬-এর ‘ক’ অনুযায়ী, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্সের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে জড়িত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ বলেন, সরকার যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার রোধ করতে চায়। এ কারণে সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দারাজ ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি অয়েল’ নামে একটি পণ্য বিক্রির তথ্য পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করতে সংস্থাটির গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সম্প্রতি ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। পরে দারাজের ডেলিভারি কর্মীদের মাধ্যমে কয়েকটি সিবিডি অয়েল সরবরাহ করা হয়।

পরবর্তীতে নমুনাগুলো রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে সেখানে উচ্চমাত্রায় টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। টিএইচসি গাঁজার প্রধান সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, দারাজে বিক্রি হওয়া পণ্যে মাদকজাতীয় উপাদান পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের স্থানে অভিযান চালানো হয়। রোববার বিকেলে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখানে বিপুল পরিমাণ কথিত সিবিডি অয়েল এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানার মালিক ও দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন জাপানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তিনি গাঁজার তরল উপাদান ব্যবহার করে এক ধরনের তেল তৈরির কৌশল শেখেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে দেশে ফিরে ঢাকায় সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে কথিতভাবে ওই পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন ও তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদকজাতীয় পণ্য বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এ ঘটনায় দারাজের প্ল্যাটফর্মে পণ্য তালিকাভুক্তি, সরবরাহকারীর যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ