Wednesday, August 19, 2026

মিরপুরের সাবেক ইউএনওর বিরুদ্ধে ফাঁকা ভাউচারে বিল বানিয়ে ৯০ হাজার টাকা আ’ত্ম’সা’তের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফাঁকা রশিদ সংগ্রহ করে ইচ্ছেমতো বিল তৈরি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আপ্যায়নের বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি বেকারি ও কনফেকশনারি এবং একটি ফলের দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার সংগ্রহ করে পরে তাতে নিজেদের মতো করে টাকার অংক বসিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আপ্যায়নের নামে চারটি ভাউচারে মোট ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। তবে সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে গিয়ে ভাউচারে উল্লেখ করা তারিখে এসব পণ্য কেনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দোকান মালিক ও কর্মচারীদের বক্তব্যেও ওই তারিখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোনো কেনাকাটার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা ভাউচার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রুমন বেকারি ও কনফেকশনারি থেকে ৭০০টি ডিম প্যাটিস, ৩০০ প্যাকেট লেক্সাস বিস্কুট ও ১০০ পিস কেক কেনা হয়েছে দেখানো হয়। একই তারিখে উপজেলার বকুল ফল ভান্ডার থেকে ৪০ কেজি করে আপেল, আঙুর, কমলা ও পেয়ারা কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরেজমিনে রুমন বেকারি ও কনফেকশনারিতে গিয়ে ওই তারিখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব পণ্য কেনার বিষয়টি অস্বীকার করেন দোকানটির কর্মচারী জনি মণ্ডল। তিনি বলেন, ইউএনও কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে ফাঁকা ভাউচার নিয়ে যাওয়া হতো। তবে সংশ্লিষ্ট মাসে ইউএনও কার্যালয় থেকে তাদের কোনো অর্ডার ছিল না।

বকুল ফল ভান্ডারের মালিক মো. রাব্বিও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ইউএনও কার্যালয় থেকে একসঙ্গে এত টাকার ফল তাদের দোকান থেকে কখনো কেনা হয়নি। বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে ফাঁকা ভাউচার নিয়ে যাওয়ার পর পরে নিজেদের মতো করে বিল তৈরি করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার সংগ্রহের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক জামিরুলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তারা ছোট কর্মচারী এবং ঊর্ধ্বতনরা যে দায়িত্ব দেন, সেটিই পালন করেন। তবে তার পক্ষ থেকে দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার নিয়ে আসার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

অভিযোগের আরও একটি দিক হলো, বিল-ভাউচারের যথার্থতা যাচাইয়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে সেগুলো যাচাই-বাছাই না করেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অফিস অডিটের মাধ্যমে ভাউচারের সত্যতা যাচাই এবং কথিত ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা মঞ্জিলা আফরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউএনও মো. নাজমুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার ভাষ্য, শুধু সাবেক কর্মকর্তাই নন, বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন এবং ভবিষ্যতে যারা আসবেন—কেউ যাতে দুর্নীতিতে জড়িত না হন, সে বিষয়টি তিনি বিভিন্ন সভায় তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, মো. নাজমুল ইসলাম বর্তমানে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ভাউচার, সরকারি বরাদ্দ, হিসাবরক্ষণ নথি, দোকানের বিক্রয় রেকর্ড এবং অর্থ পরিশোধের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তদন্তে প্রকৃতপক্ষে পণ্য কেনা হয়েছিল কি না এবং ফাঁকা ভাউচার ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ