Tuesday, August 4, 2026

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, মহাপরিচালককে ঘিরে প্রশ্ন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালকের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চাকরিতে বহাল রাখা, বদলি ও পদায়নে অনিয়ম, পদোন্নতিতে বিধি লঙ্ঘন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার চার্জশিটভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা এখনও অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উচ্চমান সহকারী মো. অলিউল্লাহ প্রধান এবং প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের ক্যাশিয়ার মো. জাহিদ হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম ক্রয়ের নামে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে। মামলার এক আসামি বর্তমানে কারাভোগ করছেন, একজন সাময়িক বরখাস্ত এবং আরেকজন অবসরে গেলেও অন্য কয়েকজন এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের ক্যাশিয়ার মো. জাহিদ হাসানকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আর্থিক লেনদেন ও কমিশন বাণিজ্যের স্বার্থে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থলে রাখা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অসদাচরণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মো. আব্দুর রহিম তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতেও আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আদালতের রায় বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এদিকে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সদর দপ্তরে প্রশাসনিক বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

তবে এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম বা অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

এ পর্যন্ত উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের রায় প্রকাশিত হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ