Friday, August 7, 2026

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘু’ষ ও দু’র্নী’তির অ’ভিযোগ, দুদকের তদন্তের দাবি

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মুর্শিদ আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা, স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে অফিস চলাকালীন সময়ে ব্যক্তিগত বাসভবন বা বিভিন্ন স্থানে সময় কাটান। এছাড়া একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয় ব্যবহার করে কর্মক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের একটি অনিয়মিত প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে জুন মাসের অডিটকে কেন্দ্র করে কয়েকজন দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি সদর উপজেলার ১৪৭টি সমিতি থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

শুধু সমবায় কার্যক্রমেই নয়, উপজেলা কৃষি অফিসের বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কেউ তথ্য সংগ্রহ বা অনুসন্ধানের চেষ্টা করলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে অশোভন মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে মো. মুর্শিদ আলম সাতক্ষীরা শহর ও তার নিজ উপজেলা আশাশুনিতে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী, সন্তান এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামে-বেনামে জমি, ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা শাহনওয়াজের বরাতে জানা যায়, পারিবারিকভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও বর্তমানে মো. মুর্শিদ আলম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে সাহস পান না।

এদিকে, সাতক্ষীরার সচেতন মহল মো. মুর্শিদ আলমের বিরুদ্ধে ওঠা আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মুর্শিদ আলম। তিনি বলেন, চাকরি জীবনের শুরুতে তিনি ও তার ভাই যৌথভাবে প্রতি কাঠা ৯০ হাজার টাকা দরে জমি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ভাষ্য, চারতলা ওই বাড়িটি এককভাবে তার মালিকানাধীন নয়। এছাড়া গ্রামের যেসব সম্পদের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বলে তিনি দাবি করেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ