Tuesday, August 4, 2026

ওএসডির ১০ দিনের মাথায় নতুন পদায়ন, শিক্ষা ক্যাডারের পরিচালককে ঘিরে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক পদ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হওয়া এম এম সহিদুল ইসলামকে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এম এম সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকা ও ফরিদপুরে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডিআইএর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি অধিদপ্তরের একাধিক পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শক ও অডিট কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষার নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং প্রতিবেদন আটকে রেখে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষার সময় বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিআইএ কর্তৃক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনগুলোর কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেদন আটকে রাখা বা পরিবর্তনের মাধ্যমে অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে এম এম সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্ল্যাট, প্লট এবং নির্মাণাধীন ভবনে অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার ধানমন্ডি, মিরপুর, পল্লবী ও কালশী এলাকায় আবাসন প্রকল্প এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি ফুড ভিলেজ নির্মাণের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি আবাসন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করছেন না, তবে ব্যবসাটি তাঁর স্ত্রী পরিচালনা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর পারিবারিকভাবে উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে এবং অর্ধশত ফ্ল্যাটের অভিযোগ সঠিক নয়। এছাড়া তাঁর সব সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার বাণিজ্যিক আবাসন ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের কার্যক্রমে সরাসরি বা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সম্পৃক্ততার বিষয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা ও আইন বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, তাঁর বিভাগের দায়িত্ব ডিআইএর নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা আবাসন ব্যবসার অনুমতি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর বিভাগ দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। পরে প্রশাসন শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ পর্যন্ত এম এম সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশিত হয়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ