বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

মা’দ’ক’বি’রো’ধী অভিযানের আড়ালে অ’নিয়ম? তদন্তে ডিএনসির চার সদস্যের কমিটি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রোর উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে ঘুষ আদায়, জব্দ করা মাদক ও নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ গোপন, নিরীহ মানুষকে মাদক মামলায় জড়ানো এবং বিভিন্ন বার ও সিসা লাউঞ্জ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএনসি। একই সঙ্গে তাঁকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ডিএনসির ৬ জুলাই জারি করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, আবুল খায়ের নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় পরিচালিত তিনটি মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য তিনি উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং বিমানবন্দর সার্কেলের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ রোকুনুজ্জামানকে সরবরাহ করেছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এক হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, ৪০০ গ্রাম হেরোইন, ২০ হাজার পিস ইয়াবা এবং দুই লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হলেও সংশ্লিষ্ট মামলায় উদ্ধার হওয়া মাদক ও নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তথ্যদাতা হিসেবে চুক্তি অনুযায়ী তিনি প্রাপ্য সোর্সমানিও পাননি। আবুল খায়েরের দাবি, পশ্চিম সানারপাড়ে পরিচালিত একটি অভিযানে ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধারের তথ্য দেখিয়ে বাকি দুই লাখ টাকারও বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা ইয়াবা ও হেরোইনের একটি অংশ গোপন রাখা, অর্থের বিনিময়ে নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও তিনি তুলেছেন। অভিযোগ প্রকাশের পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পরিচালক (নিরোধ, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রকাশনা) রাজীব আহসানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিএনসি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলাম, উপপরিচালক (অপারেশনস) মুকুল জ্যোতি চাকমা এবং সদস্যসচিব হিসেবে সহকারী পরিচালক (অপারেশনস) ফয়সাল মাহমুদ। কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পৃথক আরেকটি অফিস আদেশে পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে তদন্ত চলাকালে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এটি তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগেও মাদকবিরোধী অভিযানের নামে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, জব্দ করা আলামতের প্রকৃত পরিমাণ গোপন, বিভিন্ন মদের বার ও সিসা লাউঞ্জ থেকে মাসোহারা আদায় এবং কথিত ‘ফিটিং বাণিজ্যের’ মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে মাদক মামলায় জড়িয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগে একাধিকবার অনুসন্ধান ও তদন্ত হলেও দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে কেবল বদলির মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নাম উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত অবস্থায় জিল্লুর রহমানসহ ছয়জন কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন ঘটনায় অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে তাঁর পাশাপাশি তৎকালীন এসআই জুলহাস আহমেদ, এএসআই সানাউল্লাহ এবং সিপাহি আনোয়ার হোসেন, জিয়াউল হক ও আমজাদের নামও উল্লেখ করা হয়। তদন্তে অন্তত চারটি মাদক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সোর্স আবুল খায়েরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত কমিটিই এ বিষয়ে যথাযথ মন্তব্য করতে পারবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ