বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাময়িক ব’র’খা’স্ত, অ’নিয়ম-দু’র্নী’তি’র অ’ভি’যোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। হাসপাতাল পরিদর্শনে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবনে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুত এবং সৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে তার পরিচালিত একটি ব্যক্তিগত ক্লিনিকও সিলগালা করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। রোববার স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন সোমবার বিকেলে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে পৌঁছায়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবনে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণ এবং সৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার মতো গুরুতর অনিয়ম দেখতে পান। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান থাকায় অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তারা পেয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। পরিত্যক্ত একটি ভবনের কক্ষ খুলে সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এমনকি হাসপাতালের সৌচাগারেও ওষুধ ও স্যালাইন সংরক্ষিত ছিল বলে পরিদর্শনকালে দেখা যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় পরিচালককে নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যায় ডা. কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে ব্যক্তিগত ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ওই ক্লিনিকটি তিনি পরিচালনা করছিলেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ