
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে দুদক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার প্রধান আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গত বছরের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৭ আগস্ট এ মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ১৮ জুন নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।
এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি সম্পাদন করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে রাখা নিরাপত্তা জামানত এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে জমা রেখে সেই এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারের প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ প্রদানের বিধান না থাকলেও ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল দেওয়া, সেই বিল সমন্বয়ের আগেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা এবং প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নকশা উপেক্ষা করে বিধিবহির্ভূতভাবে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের দরপত্র জমা পড়ার পরও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর-২০০৮) অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তদন্ত শেষে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে।

