শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬

পাঠ্যবইয়ে ভূতুড়ে চাহিদা, বাঁচলো ১৫০ কোটি টাকা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মাধ্যমিক, কারিগরি ও ইবতেদায়ি স্তরের পাঠ্যবইয়ের চাহিদা নেয় এনসিটিবি। প্রথম হিসাব অনুযায়ী বইয়ের চাহিদা দেখানো হয় ২৩ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার ১১১ কপি।

কিন্তু যাচাইয়ে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ অনিয়ম। অনেক উপজেলায় শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি বই চাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে— ছাপাখানা মালিক, কিছু শিক্ষা কর্মকর্তা, এনসিটিবির অসাধু সদস্য ও স্থানীয় চক্র মিলে সরকারি অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যে বইয়ের চাহিদা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়েছে।

তদন্তে যা ধরা পড়ে:

ফেনীর পরশুরামে আগের বছরের তুলনায় ১৭৯ শতাংশ বেশি বইয়ের চাহিদা, ফেনী সদরে ৪১ শতাংশ বেশি বই চাওয়া- নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া সহ বিভিন্ন জেলায় ভুয়া চাহিদার তথ্য, পুনরায় যাচাইয়ের পর কমে যায় ৯৯ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৮ কপি বই

নতুন হিসাব অনুযায়ী এখন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে লাগবে ২২ কোটি ১০ লাখ ৪১ হাজার ৪৯৩ কপি বই। এতে সরকারের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু বলেন, “ভুয়া চাহিদা শনাক্ত হওয়ায় প্রায় ৯৯ লাখ বই কমেছে। এতে সরকারের খরচও কমবে।”

শুধু মাধ্যমিক নয়, প্রাথমিক স্তরেও ‘ভূতুড়ে চাহিদা’র অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত ২০-২২ লাখ বইয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে, যাতে সরকারের আরও ১৮-২০ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ভালো কাগজে মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। কোনো অনিয়ম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ