শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬

দুদকের মা’ম’লার পরও থামেনি কার্যক্রম? বিআরটিএ পরিদর্শক সৌরভ কুমার সাহাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিদর্শক সৌরভ কুমার সাহার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলার পরও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় পরিচালক জিয়ার ছত্রছায়ায় তিনি এখনো লাইসেন্স, ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।

গত জানুয়ারিতে ১৯১টি সিএনজি অটোরিকশার অনিয়মিত নিবন্ধন ইস্যুতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে সৌরভ কুমার সাহাকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় দায়িত্বে সক্রিয় হন।

এ ঘটনায় এখন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—মামলার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন আদৌ অনুসন্ধান করা হয়েছে কি না এবং তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হয়েছে কি না।

লাইসেন্স বোর্ডে পুরোনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি

সাম্প্রতিক কয়েকটি লাইসেন্স বোর্ডে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষায় পাসের হার অস্বাভাবিকভাবে কম রাখা হচ্ছে। পরে নির্দিষ্ট দালালচক্র ফেল করা প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রতি লাইসেন্সে আড়াই হাজার টাকা কমিশনের পুরোনো কাঠামো এখনো বহাল রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন ব্যবসায়ী বলেন, “মামলার পর কিছুদিন কার্যক্রম কম ছিল। এখন আবার আগের মতোই চলছে। শুধু লেনদেনের পদ্ধতি আরও গোপন করা হয়েছে।”

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ১১ বছরের চাকরি জীবনে সৌরভ কুমার সাহা বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা এবং পরিবহন ব্যবসায় বিনিয়োগ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৌরভ কুমার সাহা।

তবে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—

  • তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা যানবাহনের প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হয়েছে কি না
  • আয়কর নথি ও সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মিল রয়েছে কি না
  • পরিবহন ব্যবসায় বিনিয়োগের উৎস কী

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, আত্মীয়স্বজনের নামে নিবন্ধিত সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, দুদকের মামলা ও গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সৌরভ কুমার সাহার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শোকজ, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপও দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন মহলের এক ধরনের নীরব সমর্থন ও প্রভাবের কারণেই এই প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে বিভাগীয় পরিচালক জিয়ার ভূমিকা নিয়েও দপ্তরের ভেতরে নানা আলোচনা চলছে।

সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হওয়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জননিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত বিষয়টি

বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কেবল আর্থিক দুর্নীতির বিষয় নয়; এটি সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অযোগ্য চালক বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

এখন দেখার বিষয়, চলমান মামলার তদন্ত কতদূর অগ্রসর হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবিক কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয় কি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পরিদর্শক সৌরভ কুমার সাহা ও বিভাগীয় পরিচালক জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ