
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় এসএসসি ভোকেশনাল ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নম্বরের বিনিময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। থানাহাট এইউ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোর্শেদা বেগমের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, আর যে টাকা আনবে না সে নম্বর পাবে না।” এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ফাঁস হওয়া অডিওতে আরও শোনা যায়, শিক্ষার্থীদের ৫শ টাকা করে দিতে বলা হয় এবং বিষয়টি বাইরে জানাজানি হলে “অবস্থা খারাপ হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, ব্যবহারিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫শ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে নম্বর কম দেওয়া হবে—এমন আশঙ্কায় তারা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করে।
অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষকরা ঘুষের বিনিময়ে নম্বর দেওয়ার শিক্ষা দেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা কোথা থেকে শিখবে?” আরেক অভিভাবক আমিনুল ইসলাম জানান, তার সন্তানও পরীক্ষার নম্বরের জন্য বাড়ি থেকে ৫শ টাকা নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোর্শেদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তৈয়ব আলী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব রেজাউল করিম জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

