
গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলার আসামির কাছে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ফাঁস হওয়া প্রায় ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের অডিওতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে আসামির সঙ্গে কথোপকথনে শোনা যায়। সেখানে মামলাটি “হালকা” করার বিনিময়ে অর্থ দাবি করার ইঙ্গিত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানহানি মামলার তদন্ত ঘিরে বিতর্ক
জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলী গ্রামের বাসিন্দা মো. হযরত আলী গাজীপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে তিন নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন মো. জাকির মোড়ল।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান শ্রীপুর থানার এসআই মো. তাজুল ইসলাম। পরে মামলার এক আসামি জাকির মোড়লের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অডিওতে কী শোনা গেছে
ফাঁস হওয়া অডিওতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা যায়, “খরচপাতি দিলে মামলা হালকা-পাতলা করুম। না করলে কিন্তু প্যাঁচগী বাজাইয়া দিব।”
এছাড়া আরও বলতে শোনা যায়, “যোগাযোগ করলে মামলা কোর্টে গেলে শেষ হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বল।”
কথোপকথনের সময় মামলার আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে অপর প্রান্ত থেকে তাকে “যোগাযোগ” করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অডিওতে শোনা যায়।
অভিযোগ অস্বীকার এসআইয়ের
তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মো. তাজুল ইসলাম। তার দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ ও ছবি নকল করে ভুয়া অডিও তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি আসামির সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করিনি। প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব তৈরি করা সম্ভব।”
এক সাংবাদিককে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র খাবারের খরচ হিসেবে কিছু অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে।
তিনি বলেন, “অডিওটি নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

