শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬

কক্সবাজার এলজিইডিতে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, বছরের পর বছর একই জেলায় বহাল উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন

কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বদলির আদেশ এলেও প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বছরের পর বছর একই জেলায় বহাল রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অনুমোদন, কাজের অনিয়মে সহযোগিতা এবং বিভিন্নভাবে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ

সরেজমিনে কয়েকজন স্থানীয় ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হলে তারা অভিযোগ করেন, কাজের বিল, অনুমোদন কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, “টাকা না দিলে নানা অজুহাতে কাজে বাধা দেওয়া হয়। আবার অতিরিক্ত অর্থ দিলে নিম্নমানের কাজও সহজে অনুমোদন পেয়ে যায়।”

আরেক ঠিকাদারের ভাষ্য, “একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একই জেলায় এত বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বদলির আদেশ এলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয় না।”

বদলি ঠেকানোর অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে একাধিকবার বদলির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রভাব খাটিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন হেলাল উদ্দিন। ফলে বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, চাকরি জীবনে অর্জিত আয়ের তুলনায় হেলাল উদ্দিনের সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক। কক্সবাজারে তার নামে-বেনামে জমি, প্লট, ফ্ল্যাট এবং রিসোর্ট ব্যবসায় অংশীদারিত্ব থাকার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটানো হয়। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না।

তদন্তের দাবি

কক্সবাজারের বিভিন্ন ঠিকাদার ও সচেতন মহল দাবি করেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালানো হলে তার সম্পদের উৎস ও অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

তাদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একই জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেও নানা অভিযোগের পর কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ