Tuesday, August 4, 2026

ন্যাশনাল ব্যাংকের ২২.৬০ কোটি টাকার লেনদেন: ১৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দুদকের তলব

কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পর ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনায় চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির ১৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি পাঠানো পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ৪ আগস্ট সশরীরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির সূত্রে সোমবার (৩ আগস্ট) বিষয়টি জানা যায়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স ইমপ্যাক্ট কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুসন্ধান পরিচালিত হচ্ছে।

তলব করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখার এসভিপি আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. কায়সার রশীদ, বনানী শাখার ইভিপি ও ব্যবস্থাপক অলোক কুমার বিশ্বাস, এসভিপি খান মুহাম্মদ মোয়েদ আজিজ, কাজী কামাল উদ্দিন আহমেদ, হোসাইন আক্তার চৌধুরী, মো. মনিরুজ্জামান, জহির উদ্দিন আহমেদ, এসভিপি আশীষ কুমার লস্কর, ভিপি অরুণ কুমার হালদার, সেলিমা আক্তার, রফিকুর আলম, মুর্শেদ কামাল, আবু জাকারিয়া, ভিপি মুনিরম চন্দ এবং ইভিপি জহিরুল ইসলাম।

অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় কর্মঘণ্টার বাইরে রাত ৮টার পর ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপককে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে রাত ৮টার পর ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্ণধার আলী হায়দার রতনের কাছে নগদ ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই দিন বিকেলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে গ্রাহকের ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে সেই সিদ্ধান্ত শাখায় পাঠানো হয়। পরে রাত ৮টা ২৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪ মিনিটের মধ্যে অর্থ উত্তোলন করা হয়।

দুদকের তথ্যমতে, একই দিন অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৭৫তম সভায় ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের ঋণ নবায়নের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল, প্রতিষ্ঠানটির নামে সীমাতিরিক্ত ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ঋণপত্র খোলা হয়েছিল এবং অন্য একটি ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ খেলাপি অবস্থায় ছিল। ঋণ নবায়নের পরই প্রতিষ্ঠানটি ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ পায় বলে অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, ঘটনার সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ