Monday, August 3, 2026

বাপেক্সের রিগ ক্রয় প্রকল্পে টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন, সরবরাহ সক্ষমতা যাচাইয়ের দাবি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ২ হাজার অশ্বশক্তির এসি-এসি ভিএফডি স্থলভিত্তিক খনন রিগ ক্রয় প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিগ সরবরাহের সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বানের পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, দরপত্র সংগ্রহ এবং কারিগরি মূল্যায়নসহ প্রাথমিক কার্যক্রম সরকারি বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পর্যালোচনায় কিছু বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের দরপত্রের নথি সংগ্রহ করেছিল ৩৭টি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। কারিগরি মূল্যায়ন শেষে বর্তমানে প্রতিযোগিতায় রয়েছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় থাকা একটি প্রতিষ্ঠান মাত্র ১৩ মাসে পূর্ণাঙ্গ রিগ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অথচ একই ধরনের প্রকল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ মাস সময়সাপেক্ষ বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি। এ কারণে ঘোষিত সময়সীমা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রিগটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিদেশি প্রস্তুতকারকের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটারপিলারের জেনারেটর প্যাকেজ সংগ্রহ, পরবর্তীতে চীনে প্রকৌশল সমন্বয়, সংযোজন, একীভূতকরণ, পরীক্ষণ, চালুকরণ ও পরিদর্শন শেষে সমুদ্রপথে বাংলাদেশে পরিবহনের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হয়। ফলে মাত্র ১৩ মাসে পুরো রিগ সরবরাহের প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে একটি প্রতিষ্ঠানের পাঠানো আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, মূল প্রস্তুতকারকের প্রকৃত উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা স্বাধীনভাবে যাচাই না করেই টেন্ডার মূল্যায়ন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নোটিশে জ্বালানি বিভাগ, বাপেক্স এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ঘোষিত সরবরাহ সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটারপিলারের আনুষ্ঠানিক তথ্যের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। যদি দরদাতার ঘোষিত সময়সূচি মূল প্রস্তুতকারকের প্রকৃত সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে বিষয়টি সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশদাতা প্রতিষ্ঠানের দাবি, মূল প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তারা মনে করেছে, নির্ধারিত ১৩ মাসে রিগ সরবরাহ বাস্তবসম্মত নয়। এ কারণেই তারা শেষ পর্যন্ত দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব মো. মঞ্জুরুল হক অভিযোগের বিষয়ে বলেন, রিগ ক্রয় প্রকল্পটি প্রকৌশল, সংগ্রহ ও নির্মাণ (ইপিসি) প্রকল্প নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বভিত্তিক (টার্নকি) প্রকল্প। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসারেই পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি ক্রয়ে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সব দরদাতাকে একই বাস্তবতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোনো দরদাতা যদি অস্বাভাবিকভাবে কম সময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মূল্যায়নে সুবিধা অর্জন করে এবং পরে সময় বৃদ্ধির আবেদন করে, তাহলে শুরু থেকেই বাস্তবসম্মত সময় উল্লেখ করা অন্য দরদাতাদের প্রতি ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকারি প্রকল্পে কম সময়ের প্রতিশ্রুতি সবসময় দক্ষতার প্রমাণ নয়; কখনো কখনো এটি মূল্যায়নে সুবিধা পাওয়ার কৌশলও হতে পারে। তাই এমন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে বাস্তব সক্ষমতার প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ