
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি বেসরকারি অডিট প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে কলেজটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক ঘাটতি, ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার, সরকারি প্রকল্পের অর্থের হিসাব না থাকা এবং প্রশাসনিক নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগের পরও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদভিত্তিক অডিট প্রতিষ্ঠান ‘মাহামুদ সবুজ অ্যান্ড কোম্পানি’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের স্ত্রী, তখন বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অডিটে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ছয় বছরে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার অসঙ্গতি ও ঘাটতি পাওয়া গেছে, যার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অডিট প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘ঋণ বিতরণ’ শিরোনামে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬৩ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও তার কোনো প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি। এছাড়া পুরোনো পরীক্ষার খাতা ও বাতিল উপকরণ বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অধিকাংশ বিল-ভাউচারে নম্বর বা যথাযথ অনুমোদন ছিল না। এমনকি সিনিয়র শিক্ষকের স্বাক্ষরযুক্ত সাদা কাগজ ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে সরকারি পিবিজিএসআই প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত ৫ লাখ টাকা অগ্রণী ব্যাংক থেকে একক স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হলেও তিন বছর পরও সেই অর্থের ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রাখা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে হাঁস-মুরগি পালনের মতো প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ইফতেখার আহমেদ জুয়েল দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নে তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে একটি বেসরকারি অডিট সম্পন্ন করা হয়। তাঁর অভিযোগ, অডিটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও ই-মেইলে অবহিত করার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, সাবেক সভাপতি ইফতেখার আহমেদ জুয়েল একসময় দায়িত্বে থাকলেও গত নভেম্বর থেকে ওই কমিটি আর কার্যকর নেই। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নতুন সভাপতি হিসেবে গাজী শামশুল আলমের নাম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক সভাপতি তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা বেগম বলেন, সাবেক সভাপতি একটি বেসরকারি অডিট প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

