শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬

৭ কর্মদিবসের তদন্ত এক মাসেও শেষ নয়, এলজিইডির পিডি আব্দুর রাজ্জাককে ঘিরে উঠছে নতুন প্রশ্ন

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে চলছে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডি প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ২৬.১২.০০০.০০১.২৪.০২৫.৬৪৮ নম্বর স্মারকে প্রশাসন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল বারেক হাওলাদারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নগর), পরিকল্পনা ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন শাখার আক্তার হোসেনকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই আদেশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত সাত কর্মদিবস অনেক আগেই পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এ কারণে তদন্তের অগ্রগতি ও এর স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলজিইডির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, তদন্ত কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না এবং বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, দণ্ডবিধি, ১৮৬০, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ অনুযায়ী অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ