
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৫–এ টেন্ডার অনিয়ম, পার্সেন্টেজ বাণিজ্য ও প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিভাগের প্রকৌশলী তামজীদ এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাজিয়া সুলতানা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে একের পর এক প্রকল্পের এস্টিমেট বিক্রি এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভাগজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্ট মাজার মসজিদের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের পঞ্চম তলার কাজ চলমান থাকলেও এর ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) অংশের বিভিন্ন কাজের টেন্ডার সম্পন্ন করে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শেষেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ওটিএম টেন্ডার আইডি-১০০২৬৪৬ এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট মাজার মসজিদে ১ হাজার কেভিএ সাবস্টেশন স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মেসার্স মামুন অ্যান্ড ব্রাদার্সকে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যদিও প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সরকার প্রায় ১৯ থেকে ২০ লাখ টাকা সাশ্রয় করতে পারত। আরও অভিযোগ রয়েছে, সাবস্টেশনের যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন আগে গুদামজাত করা হলেও তা এখনও ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলোর কার্যক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
একই অর্থবছরে টেন্ডার আইডি-১০৩৭৪১০ এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট মাজার মসজিদের জন্য ২৫০ কেভিএ জেনারেটর সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে গেজ বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সীমিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাত্র ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম দরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া ওটিএম টেন্ডার আইডি-১২২০২৫৭ এর মাধ্যমে ৬৩০ কেজি ধারণক্ষমতার একটি প্যাসেঞ্জার লিফট, টেন্ডার আইডি-১১২৯৮৩৩ এর মাধ্যমে দুটি এস্কেলেটর এবং টেন্ডার আইডি-১১৯০০১৪ এর মাধ্যমে আরও একটি ৬৩০ কেজি প্যাসেঞ্জার লিফট সরবরাহ ও স্থাপনের কাজও পছন্দের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, একই মসজিদ প্রকল্পের আওতায় ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার কাম প্যাসেঞ্জার লিফট, ফোর্স ভেন্টিলেশন সিস্টেম, সোলার ও সার্জ প্রোটেকশন ব্যবস্থা, বিশেষ আলোকসজ্জা, সিসিটিভি, সাউন্ড ও নেটওয়ার্কিং সিস্টেম এবং ভিআরএফ ও স্প্লিট টাইপ এয়ার কুলিং সিস্টেমসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে শতকোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাস্তবে কোথায় সংরক্ষিত আছে বা আদৌ সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
এদিকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধেও পার্সেন্টেজ বাণিজ্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই কাজ না করেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজের মূল্যের ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি অর্থ কমিশন হিসেবে আদায় করা হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও দাবি করেছে, রাজিয়া সুলতানা এর আগে রংপুর বিভাগে কর্মরত থাকাকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজে নকশাবহির্ভূত ও নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন।

