রবিবার, মে ৩, ২০২৬

পীরগাছায় হাট ইজারায় দুর্নীতির অভিযোগ, ইউএনওর তাৎক্ষণিক বদলি

রংপুরের পীরগাছায় ঐতিহ্যবাহী দেউতি হাটের ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের জেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাককে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রংপুর জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। একই আদেশে উল্লেখ করা হয়, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাকে সেদিন বিকেলেই বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পীরগাছা উপজেলার দেউতি হাট ইজারা নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল ইউএনও কার্যালয়ে খাস ডাকের মাধ্যমে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এতে প্রায় ২০ জন দরপত্রদাতা অংশ নেন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থতায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন হাটটির ইজারা লাভ করেন।

তবে ইজারা পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে হিসাব দেওয়া হয়, তাতে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের তথ্য উঠে আসে। সেখানে ইউএনওর নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার নামে ২ লাখ টাকা, তহশিলদারের নামে ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খরচসহ মোট ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের উল্লেখ রয়েছে।

হাট সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী অভিযোগ করেছেন, এ ধরনের অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ এবং চাঁদাবাজির শামিল। তাদের দাবি, আগের বছরেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ১৪৩২ বাংলা সনে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার টেন্ডার বাতিল করে কম মূল্যে খাস ডাক নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন খরচের অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হক সুমনসহ সংশ্লিষ্টরা প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে হাটটি পুনরায় সাব-ইজারা দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। সাব-ইজারাদার বেলাল হোসেন জানান, খাস ডাকের প্রকৃত মূল্য ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকা দেখানো হয় এবং সাব-ডাকের মাধ্যমে তিনি ৪৫ লাখ টাকায় হাটটি নেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, “আমি কাকে কত টাকা দিয়েছি, সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়।” অন্যদিকে যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টিকে দলীয় বিষয় বলে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও দেবাশীষ বসাক বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার বদলির আদেশ আগেই হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আমাকে অবমুক্ত করা হয়েছে।”

এদিকে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রশিক্ষণে থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রোকসানা জানান, তিনি ওই আদেশে স্বাক্ষর করেননি, তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ