
রাজশাহীর খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি পুকুর ও খাল পুনঃখনন এবং খরা সহিষ্ণু ফসল উৎপাদনে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পটি তানোর উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে এসকেএস ফাউন্ডেশন। তবে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকায় পাঁচটি খাস পুকুর সংস্কারকে ঘিরে জটিলতা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান একটি পুকুর ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ঠিকাদার সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার ইউএনও নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুকুর খনন কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরের চারটি ব্যাটারি ও টুলবক্স খুলে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময় এক্সকেভেটর চালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউএনও কার্যালয়ের পিয়ন রাজন হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পুকুর খননের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, রাজশাহীসহ তিন জেলায় মোট ১৮টি এনজিওর মাধ্যমে জলাশয় সংস্কারের কাজ চলছে। তানোরে ৫২ লাখ টাকার পুকুর খনন প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় মেসার্স কুশ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার কাজ শুরু হয় ১ এপ্রিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনও নাঈমা খান প্রকল্প সমন্বয়কারী আরাফাত রহমানকে ডেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পুকুর ভরাটের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানো হলে তিনি এতে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং পরে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন।
পরবর্তীতে ইউএনওর নির্দেশে অফিস সহকারী ইমরান আলী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে ডেকে পুকুর ভরাটের তাগিদ দেন বলে জানা গেছে। ঠিকাদার জানান, পুকুরটি ভরাট করতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা প্রকল্পের আওতার বাইরে। এরপর ইউএনওর পিয়ন রাজন হোসেন সমস্যা ‘সমাধান’ করার জন্য এক লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা ঠিকাদার প্রত্যাখ্যান করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাপ্পি বলেন, অভিযানের সময় পিয়ন রাজন ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করেন এবং চালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজন হোসেন। তিনি দাবি করেন, ব্যাটারি ভাঙা বা মোবাইল ফোন নেওয়ার ঘটনা সত্য নয় এবং উৎকোচ দাবির অভিযোগও ভিত্তিহীন।
অফিস সহকারী ইমরান আলী বলেন, তিনি ইউএনওর নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ডেকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। অন্যদিকে ইউএনও নাঈমা খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি কোনো সরকারি কাজ নয় এবং পুকুরটি প্রকৃতপক্ষে ছোট একটি ডোবা। তিনি আরও দাবি করেন, ঠিকাদার পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি করছিলেন, এ কারণেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দ করা সরঞ্জাম ফেরত দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান, যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার অঙ্গীকার করে।
এদিকে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

