Friday, August 7, 2026

দু’র্নী’তির অ’ভিযোগে তদন্তাধীন চার সিটি করপোরেশন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ

দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন চার সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার গোপনে দেশত্যাগের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদেশযাত্রা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

তদন্তাধীন ওই চার কর্মকর্তা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সংযুক্ত যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক এবং বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনে কর্মরত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী এবং একই সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তা।

জানা গেছে, মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এবং তার স্ত্রী ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে গত ২৬ জুলাই একটি ‘গোপনীয়’ চিঠি জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, পুলিশের ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব ইমিগ্রেশন চেকপোস্টকে বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে যে, অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা গোপনে দেশত্যাগ করতে পারেন। এ কারণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় তাদের বিদেশযাত্রা বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা আবেদন করেছেন। তদন্তে বিঘ্ন এড়াতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয়তার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই চার কর্মকর্তা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। চিঠির সঙ্গে তাদের নাম, পদবি, স্থায়ী ঠিকানা, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত তথ্য এবং পাসপোর্টের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ