সোমবার, মে ৪, ২০২৬

সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের অগ্রাধিকার, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরলেন উপদেষ্টা

রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে একটি সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিকতা থিমেটিক কোলাবোরেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)। এতে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে, যা বিশেষ করে নারীদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরিবার ও সন্তান লালন-পালনে নারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

অনুষ্ঠানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বৈষম্যবিরোধী আইন, মানবাধিকারকর্মীদের সুরক্ষা, জেন্ডার সমতা এবং যুবসমাজের সম্পৃক্ততা। প্যানেল আলোচনা ও ব্রেকআউট সেশনে অংশগ্রহণকারীরা নীতিগত চ্যালেঞ্জ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব কো-অপারেশন মিখাল ক্রেজা তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে, যেখানে জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ সময় নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, দেশের নাগরিক সমাজ ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী হলেও গত এক দশকে এর কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে, যার পেছনে আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করেছে।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বক্তা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্রেকআউট সেশন শেষে সুপারিশ তুলে ধরেন ওয়াসিউর রহমান তন্ময়। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বৈষম্য নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং নীতিগত সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন।

এসময় সারা হোসেন, অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করার আহ্বান জানান।

ফাহমিদা খাতুন, নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কোরিন থেভেজ, ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, বাংলাদেশ। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ