সোমবার, মে ৪, ২০২৬

ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের গরু বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ, বঞ্চিত জেলে

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া একটি গরু না পেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন তারাপদ বিশ্বাস নামে এক দরিদ্র জেলে। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে হস্তান্তরের পর বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহরমৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা তারাপদ বিশ্বাস উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে তাকে একটি গরু বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে বিতরণ তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে তিনি কোনো গরু পাননি বলে অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে গরু দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে কার্ড নেওয়া হয় এবং ‘অফিস খরচ’ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে না পারায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার অজান্তেই তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১ মে) তারাপদ বিশ্বাস জানান, তালিকার ৩৯ নম্বরে তার নামে থাকা প্রায় ৬০ কেজি ওজনের বকনা বাছুরটি পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, একই দিনে বিতরণ করা প্রায় ৬০টি গরুর মধ্যে একাধিক তালিকাভুক্ত জেলে প্রকৃতপক্ষে গরু পাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর পরিবারের গোয়ালে ওই গরুটি রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গরু পাওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা দিয়ে তারা গরুটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, গরুটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ ছিল।

শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে দাবি করেন, গরু গ্রহণের সময় মাস্টার রোলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে যে স্বাক্ষর রয়েছে, তা তিনি দেননি এবং গরু নেওয়ার সময় তারাপদের কোনো পরিচয়পত্রও দেখানো হয়নি।

এদিকে অভিযোগ দেওয়ার পর উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তারাপদ বিশ্বাসের ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস বলেন, একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে, যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহিত বালা তা অস্বীকার করে বলেন, সরকারি গরু পাইয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতা তার নেই এবং মৎস্য দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, তারাপদ বিশ্বাস তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। তিনি উপস্থিত না থাকায় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তার ছেলে দাবি করা এক ব্যক্তির কাছে গরুটি হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া গরু প্রদান করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ