
রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মির্জা মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৯৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই মামলায় তার স্ত্রী শাহানা পারভীনকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শাহানা পারভীন তার সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিলেও দুদকের তদন্তে তার নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
দুদকের অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তদন্তে আরও দেখা যায়, পারিবারিক ব্যয় বিবেচনায় শাহানা পারভীনের মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। এর বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ফলে অবশিষ্ট ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শাহানা পারভীন একজন গৃহিণী হওয়ায় সহকারী পুলিশ সুপার মির্জা মো. আব্দুস সালাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে বিনিয়োগ করেন এবং পরে তা বৈধ করার চেষ্টা করেন।
দুদক জানায়, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ পাওয়ার পর দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসপি মির্জা মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, তাদের সব সম্পদ বৈধ এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। তার দাবি, স্ত্রী শাহানা পারভীন উত্তরাধিকারসূত্রে ১৪ বিঘা জমির মালিক এবং ২০১৪ সাল থেকেই নিয়মিত আয়কর দিয়ে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলাকালে দুদকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার স্ত্রীর বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

