বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬

জা’ল শেনজেন ভিসায় ইতালি পাঠানোর অ’ভিযোগ, বিমানের কর্মকর্তা গ্রে’ফ’তার

জাল শেনজেন ভিসা ব্যবহার করে ইতালিতে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০)। তিনি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার আশকোনায় বসবাস করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেট) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে একটি মানবপাচারকারী চক্র দুই ব্যক্তির কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকায় বিদেশ পাঠানোর চুক্তি করে। চুক্তির অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীরা জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন।

পরবর্তীতে চক্রটি তাদের নেপাল ও ইতালিগামী বিমান টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে। গত ২৬ মে তারা বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে রওনা হন।

তবে ইতালির রাজধানী রোমের ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টে সংযুক্ত শেনজেন ভিসা পরীক্ষা করে তা জাল বলে শনাক্ত করে। এরপর দুই ভুক্তভোগীকে আটক করে দুই দিন হেফাজতে রাখা হয় এবং পরে ২৮ মে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

দেশে ফিরে ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তদন্তে উঠে আসে, বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানবপাচারকারী চক্রটি জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে তাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার পর বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তকালে সিআইডির মানবপাচার প্রতিরোধ (টিএইচবি) ইউনিট গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে মোহাম্মদ আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির টিএইচবি ইউনিট।

একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া জাল ভিসা, মানবপাচার বা অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধও জানিয়েছে সিআইডি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ