
ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) পদ্ধতির অপব্যবহার, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও বিভাগীয় একাধিক সূত্রের দাবি, স্বল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক সংখ্যক দরপত্র আহ্বান এবং ফাইল অনুমোদনে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবির কারণে বিভাগটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সীমিত দরপত্র (এলটিএম) পদ্ধতির পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
দেড় মাসে ৩৯টি ওটিএম দরপত্র
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি—এই তিন দিনে ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগ থেকে মোট ৩৯টি ওটিএম দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একই সময়ে অন্য অনেক বিভাগে এ ধরনের ব্যাপক আকারে ওটিএম দরপত্র আহ্বানের নজির পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভাগটির ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আড়ালে কিছু দরপত্রে পূর্বনির্ধারিত সমঝোতা এবং দর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
ফাইল অনুমোদনে কমিশন দাবির অভিযোগ
নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ফাইল অনুমোদন, বিল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশন দাবির অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের বিল, প্রশাসনিক অনুমোদন কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট হারে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দাবি অনুযায়ী অর্থ প্রদান না করলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
একাধিক ঠিকাদার জানান, এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এর ফলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনসেবামূলক প্রকল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের অভিযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের মতে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্প অনুমোদন এবং বিল ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল মনিটরিং ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের সাম্প্রতিক ওটিএম দরপত্রগুলো এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করেননি।
এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা, আর্থিক অনিয়মের মাত্রা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অসঙ্গতি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

