
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে কাহালু উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তফির আলীর বিরুদ্ধে অন্যের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মুক্তিযোদ্ধার নাতি কোটায় সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও যে মুক্তিযোদ্ধাকে তিনি নিজের নানা হিসেবে দেখিয়েছেন, সেই মুক্তিযোদ্ধাই তাকে নাতি হিসেবে অস্বীকার করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার পীরব ইউনিয়নের দাইমুল্যা (নড়িয়াল) গ্রামের মো. জাফের আলী সরকার ও মোছা. হাসিমন বেগমের ছেলে তফির আলী ২০১৭ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পান। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা সংরক্ষিত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরির আবেদনকালে তফির আলী শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের কঞ্চিথল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীর উদ্দিন আকন্দকে নিজের নানা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি তার মা হাসিমন বেগমকে ওই মুক্তিযোদ্ধার কন্যা হিসেবে দেখিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি লাভ করেন।
তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে হাসিমন বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হলে দেখা যায়, তার পিতার নাম হাতেম আলী এবং মাতার নাম জয়গুন বিবি। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত ওয়ারিশ সনদেও হাতেম আলীকেই হাসিমন বেগমের পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পীরব ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আকরাম হোসেন বলেন, “তফির আলী হাতেম আলীর নাতি। মুক্তিযোদ্ধা নবীর উদ্দিন আকন্দ তার নানা নন। আমার জানা মতে, নবীর উদ্দিন আকন্দের সঙ্গে তফির আলীর কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।”
এ বিষয়ে কথা হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীর উদ্দিন আকন্দও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হাসিমন বিবি নামে আমার কোনো মেয়ে নেই। তফির আলী নামে কোনো নাতিও নেই। তাকে আমি আমার মুক্তিযোদ্ধা সনদও দিইনি।”
অভিযোগ রয়েছে, তফির আলী তার মা হাসিমন বেগমকে মুক্তিযোদ্ধা নবীর উদ্দিন আকন্দের কন্যা হিসেবে দেখিয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া সম্প্রতি প্রস্তুত করা একটি জন্ম নিবন্ধন সনদেও হাসিমন বেগমের পিতা হিসেবে নবীর উদ্দিন আকন্দের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তফির আলী বলেন, “আমার কাগজপত্র সব ঠিক আছে। অভিযোগ দিলেই চাকরি চলে যাবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ধরনের কাগজপত্র সংশোধনের নজির রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

