শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬

অ’বৈধ বাজাজ সিএনজি আমদানি ও শুল্ক ফাঁকির অ’ভিযোগে আলোচনায় সিন্ডিকেট

দেশে অনুমোদনবিহীন উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি, শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশে বাজাজ ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সিএনজি থ্রি-হুইলারের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৯৮.৮৮ সিসি। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি ও উত্তরা মোটরস দেশে বৈধভাবে সিএনজি সংযোজন ও বাজারজাত করছে। রানার গ্রুপ ময়মনসিংহের ভালুকায় আধুনিক কারখানা স্থাপন করে ভারত থেকে যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে এসব যানবাহন সংযোজন করছে।

রানার অটোমোবাইলসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সনদ দত্ত বলেন, “২৩৬ সিসির ইঞ্জিন মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। বাংলাদেশে এই মডেল অনুমোদিত নয়। অননুমোদিত উৎস থেকে এসব গাড়ি আমদানির ফলে বাজারে বাজাজ ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ২৩৬.২ সিসির উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করছে। অভিযোগ রয়েছে, সিসি ও পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে (আন্ডার-ইনভয়েসিং) শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।

এনবিআর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৭টি চালানে মোট ৭২৫ ইউনিট সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বছরভিত্তিক হিসাবে, ২০২৪ সালে ২২ ইউনিট সিএনজি আমদানিতে প্রায় ২১ লাখ টাকা, ২০২৫ সালে ২৩৪ ইউনিটে প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৫১ ইউনিট আমদানিতে প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের মার্চে ৭২ ইউনিট অটোরিকশার একটি চালানে প্রতি ইউনিট মাত্র ১,৫০০ মার্কিন ডলার মূল্য ঘোষণা করা হয়। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন ও বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, প্রকৃত মূল্য আরও বেশি হওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই এক চালানেই প্রায় ৭৪ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হালিমা রশিদ ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীন ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, রানার মোটরসাইকেলের ডিলার ও ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দালালি ও অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, প্রতিটি সিএনজির বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে। এছাড়া এই অর্থ দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো মোটরযান বিক্রি বা রাস্তায় নামানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এমন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল, জরিমানা এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিধান রয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, দেশের রাজস্ব সুরক্ষা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ আমদানি ও রেজিস্ট্রেশন সিন্ডিকেট বন্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এনবিআর, বিআরটিএ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ