
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে কেন্দ্র করে দালালচক্রের সক্রিয়তা ও সেবায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম, যাকে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অফিসটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা কমে গেছে এবং দালালদের প্রভাব বেড়েছে। সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন, ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনলাইনে জমা দেওয়া অনেক আবেদন “মোবাইল কল রিসিভ করা হয়নি” এই অজুহাতে বাতিল করা হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের দাবি, তারা কোনো কলই পাননি। এতে ডিজিটাল সেবার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মিটার সংক্রান্ত তদন্ত সরেজমিনে করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর অফিসে বসেই ফোনে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে প্রকৃত অবস্থা যাচাই ছাড়াই আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করা হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রাহকদের দাবি, দালাল ছাড়া সরাসরি আবেদন করলে তা নানা অজুহাতে বাতিল করা হচ্ছে। ফলে সেবা পেতে অনেকেই দালালের দ্বারস্থ হচ্ছেন, যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করছে।
বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। মাত্র ৩০০ ফুট দূরত্বে খুঁটি স্থাপনের আবেদন মাসের পর মাস ঝুলে থাকছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বল্প দূরত্বে খুঁটি বসাতে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনামূল্যে খুঁটি দেওয়ার কথা। একাধিক খুঁটির ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও শত শত আবেদন অযৌক্তিক কারণে বাতিল করা হচ্ছে। এতে বহু গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত এই কর্মকর্তার অপসারণ এবং সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবা—এখানে কোনো ধরনের দালালচক্র বা অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

