মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬

বাউফলে জাল সনদে বয়স বাড়িয়ে চাকরি—দফাদার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জাল শিক্ষাসনদ তৈরি, স্বাক্ষর জাল এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে এক দফাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে নেমেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি নওমালা ইউনিয়নের দফাদার মো. আবুল হোসেন মৃধা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরির বয়স বাড়ান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে সরাসরি পরিবর্তন করলে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি ভিন্ন কৌশল নেন। প্রথমে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে একটি সনদ তৈরি করেন। পরে সেই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রারে আবুল হোসেন নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন না। এটি গুরুতর অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।”

অভিযোগ অনুযায়ী, দাখিলকৃত এক সনদে তার জন্মতারিখ ১ ডিসেম্বর ১৯৬৮ উল্লেখ করা হলেও চাকরিতে যোগদানের সময় জমা দেওয়া পঞ্চম শ্রেণির সনদে জন্মসাল ছিল ১৯৬২ সালের ১ ডিসেম্বর। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একাধিকবার জন্মতারিখ পরিবর্তন করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সুপারিশপত্র পাওয়া গেছে। তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য যাচাই করা হবে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের সার্ভিস বই গায়েব হওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে চিঠি দিয়ে নিশ্চিত হওয়া হবে, তিনি আদৌ ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন কি না।

১৯৮২ সালের ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আবুল হোসেন তাদের সঙ্গে ওই সময়ে পড়াশোনা করেননি। এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি যখন নওমালা হাইস্কুলে পড়তাম, তখন তিনি পটুয়াখালীতে একটি হোটেলে কাজ করতেন।”

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

অভিযুক্ত আবুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ