শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬

আবাসন খাতে প্রশ্নহীনভাবে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ আসছে নতুন বাজেটে

আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার নতুন সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। জমি, ভবন ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের চেয়ে প্রকৃত লেনদেনমূল্য বেশি হলে সেই অতিরিক্ত অর্থ স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা করে নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দলিলে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ লেনদেন করে থাকলে তিনি সেই অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আয়কর পরিশোধ করে অর্থ বৈধ করতে পারবেন। এ সুবিধা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে।

প্রস্তাবিত বিধানে বলা হয়েছে, করদাতা স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত লেনদেনমূল্য ঘোষণা করে প্রযোজ্য কর পরিশোধ করলে ওই অর্থের উৎস বা সংশ্লিষ্ট লেনদেন বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। একই সঙ্গে অর্থ আইন বা দেশের অন্য কোনো আইনের অধীনে এ বিষয়ে পৃথক কোনো কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগও সীমিত থাকবে।

তবে ইতোমধ্যে যদি কোনো করদাতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপ্রদর্শিত লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত বা প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে, তাহলে তাকে প্রযোজ্য করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ স্বেচ্ছায় ঘোষণা দেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় তদন্তাধীন ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক দায় বহন করতে হবে।

প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি এ ধরনের কর ফাঁকি বা অপ্রদর্শিত অর্থ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তারা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন না।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত দলিলমূল্য ও প্রকৃত বাজারমূল্যের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি অপ্রদর্শিত অর্থকে করের আওতায় আনতেই সরকার এমন উদ্যোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, বারবার কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হলে নিয়মিত করদাতাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হতে পারে এবং কর নৈতিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবিত বিধানের মাধ্যমে আবাসন খাতের প্রকৃত লেনদেনমূল্য প্রকাশ পাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে উপস্থাপন ও আইন পাস হওয়ার পর।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘদিনের অপ্রদর্শিত লেনদেনের একটি অংশ বৈধতার আওতায় আসতে পারে। একই সঙ্গে এটি কর ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ঘোষণা এবং রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ