
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আতাহারের বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগে অনিয়ম এবং প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্বে থেকেও তিনি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন আতাহার। পাশাপাশি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাবেক এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের প্রভাব ব্যবহার করে আতাহার পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে পদায়ন নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ওই পদ লাভ করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসে বদলি ও নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফায়ার ফাইটার, লিডার ও ড্রাইভার পদে বদলির ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আসন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান মহাপরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আতাহারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফায়ার ফাইটার মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগ কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দীর্ঘদিনেও প্রকাশ না হওয়ার পেছনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট পক্ষের অনুকূলে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তদবির করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক আতাহার। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

