বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

ফেনী পৌরসভায় ফিরলেন প্রকৌশলী আজিজুল হক, বদলি ঘিরে বিতর্ক ও ক্ষো’ভ

ফেনী পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হকের পুনরায় ফেনী পৌরসভায় বদলি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভা থেকে তাকে ফেনী পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

গত ৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এ আদেশ জারি হয়। বদলির খবর প্রকাশের পর ফেনীর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, দীর্ঘ সময় ফেনী পৌরসভায় দায়িত্ব পালনকালে মো. আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০০৭ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ফেনী পৌরসভায় যোগ দেওয়ার পর তিনি একই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরও ফেনীতে বহাল থাকেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন এবং পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রমে একক প্রভাব বিস্তার করেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

সূত্রমতে, গত বছরের শুরুতে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফেনী থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভায় বদলি করা হয়। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করেন। তবে সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পুনরায় ফেনীতে ফেরার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফেনীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন। ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, নকশা প্রণয়ন এবং বাজেট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতো।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা ও ফেনীতে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার মোহাম্মদপুর ও ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং অন্যান্য স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন।

এদিকে পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি সাময়িক বহিষ্কার হওয়া পৌরসভার হিসাবরক্ষক রুপক হাজারীর বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. আজিজুল হকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনস্বার্থে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ