সোমবার, অক্টোবর 26, 2026

দুর্নীতির মামলায় সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আবদুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দুর্নীতির একাধিক মামলার আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক মো. আখতারুল ইসলামের বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর কাতারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে আটক করে। ইন্টারপোল ই-মেইলের মাধ্যমে দুদককে বিষয়টি জানায়। দুদকের দাবি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং একাধিক দুর্নীতির মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশ ছেড়েছিলেন।

শেখ আবদুল হান্নান ১৯৮৪ সালে পাইলট হিসেবে কমিশন পান। ২০২১ সালের ১২ জুন তিনি বিমানবাহিনীর ১৬তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০২৪ সালের ১১ জুন অবসরে যান।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ আবদুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তাঁর ছয়টি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

একই মামলায় তাঁর স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীর সহায়তায় তিনি জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। তদন্তকারীরা কানাডা ও দুবাইয়ে সম্পদের সন্ধান পেয়েছেন এবং তিন দেশে সন্তানদের নামে নিবন্ধিত সম্পদ শনাক্ত করেছেন বলেও দুদক জানিয়েছে।

দুদক ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলার অনুমোদন দেয়। এর আগে আদালতের আদেশে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে ঢাকার একটি আদালত দুদকের দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন।

তাঁকে কবে বা কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

অভিযুক্তের বক্তব্য

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে শেখ আবদুল হান্নান বা তাঁর স্ত্রীর কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। [সম্পাদকের জন্য: এসিএম অভিযুক্তপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এই বাক্যটি রাখুন — “এসিএম তাঁদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।” না করলে প্রকাশের আগে এই বন্ধনীর অংশটি মুছে ফেলুন।]

মামলা বা গ্রেপ্তারের অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট (পিটিআই), ১৮ অক্টোবর ২০২৬; দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ