Sunday, August 30, 2026

রেলের উন্নয়ন, টেন্ডার ও জমি বরাদ্দে একই বলয়, উঠছে অনিয়মের নানা অভিযোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামত, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং সরকারি জমি বরাদ্দ—বিভিন্ন খাতের নথিতে বারবার একই কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা), চট্টগ্রামের সিআরবি এবং ঢাকার কমলাপুর পর্যন্ত রেলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন, ঠিকাদার আনিসুর রহমান টিপু ওরফে ‘পার্কিং টিপু’ এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আফসার আলী বিশ্বাসের নাম। তাদের ঘিরে রেলের কাজ, বাণিজ্যিক বরাদ্দ ও বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তি থাকায় আফজাল হোসেনের দায়িত্বকাল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ট্রাকশন মোটর মেরামতের কয়েকটি চুক্তি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরের ৮ মার্চ রেলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে পাঁচটি ট্রাকশন মোটর মেরামত চুক্তির তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথি এবং কাজের বিস্তারিত বিবরণ চায় দুদক। উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

দুদকের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পার্বতীপুরের কেলোকায় যন্ত্রাংশ সরবরাহের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আফসার আলী বিশ্বাসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো কেলোকায় প্রায় ৮০টি কাজ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য টেন্ডার থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো যন্ত্রাংশ মেরামত করে সরবরাহ করা হয়েছে। পরে সেসব যন্ত্রাংশ ব্যবহারের সময় ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ৩০০০ সিরিজের লোকোমোটিভের ট্রাকশন মেইন বিয়ারিং কেনাকাটাও এ কারণে আলোচনায় এসেছে।

রেলের নতুন কেনা কোচ ও ইঞ্জিনের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ৬৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এসব কোচ ও ইঞ্জিনে গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করছে। গত ২ জুলাই পাঠানো তদন্তপত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রমাণপত্রসহ শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হয়। যুগ্ম সচিব ও তদন্ত কর্মকর্তা খালেদা আখতারের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে শুনানির সময় ৬ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছিল।

রেলভূমি বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন

রেলের জমি ব্যবস্থাপনায়ও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে এসেছে। এস এম এ মোসাব্বিরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের সিআরবি থেকে পাহাড়তলীর এসআরভি স্টেশনের পশ্চিম-উত্তর পাশে সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুট রেলভূমি বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবরের ওই বরাদ্দসংক্রান্ত পত্রে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব) জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং এসিসিএম (আব) (পূর্ব) স্বাক্ষর করেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

রেলের বাণিজ্যিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় ২০১৫ সালের একটি নির্দেশনাও রয়েছে। ভেন্ডিং নীতিমালা অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলের ঢাকা বিভাগে ৯২৬টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫২টি দোকান বরাদ্দ রয়েছে। ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর তৎকালীন মহাপরিচালক মো. আমজাল হোসেনের স্বাক্ষরিত ইউও নোটে নতুন করে দোকান বরাদ্দ না দেওয়া এবং পুরোনো বরাদ্দের মেয়াদ না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে দোকানের সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে ওই নির্দেশনার পরও কমলাপুর রেলস্টেশনে পাবলিক টয়লেটের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে ৪৮০ বর্গফুট জায়গা ফাস্টফুডের দোকানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪ জুন ২০২৬-এর নথি অনুযায়ী, আনিসুর রহমান টিপুর মালিকানাধীন সিকদার কনস্ট্রাকশনের আবেদনের ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট নথিতে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব) সিআরবি ও এসিসিএম (আর) (পূর্ব) স্বাক্ষর করেছেন।

সরেজমিনে ওই জায়গায় বড় একটি দোকান নির্মাণের চিত্র দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জায়গাটির বাজারমূল্য শতকোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করা হলেও এ মূল্যায়নের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পাবলিক টয়লেটের পাশে খাদ্যপণ্যের দোকান বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বরাদ্দ নিয়ে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই জারি করা অফিস আদেশে অতিরিক্ত সচিব মো. রুপম আনোয়ারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ওই বরাদ্দ প্রক্রিয়া যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

টেন্ডার ও কাজের তালিকায় বারবার একই প্রতিষ্ঠানের নাম

কমলাপুরের দোকান বরাদ্দ ছাড়াও আনিসুর রহমান টিপুর প্রতিষ্ঠানকে রেলের বিভিন্ন কাজ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা বিমানবন্দর, টঙ্গী, জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও ইসলামপুর স্টেশনের গণশৌচাগারের কাজেও তার প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরের ১৬টি দরপত্রের মধ্যে আটটির কাজ পেয়েছে সিকদার এন্টারপ্রাইজ। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের ডিইএন-১, ডিইএন-২ ও ডিইএন-৩ দপ্তর থেকেও তার প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অন্যদিকে আফসার আলী বিশ্বাসকে ঘিরে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেলের কাজ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। মেসার্স বাঁধন এন্টারপ্রাইজ, রুপিতা এন্টারপ্রাইজ, শ্রীজা মেটাল এবং বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন—এই চারটি প্রতিষ্ঠান ঢাকার বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারের ১২ তলার সুইট-১৮ থেকে পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রেলের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সেখানে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এবং বিভিন্ন কাজ নিয়ে আলোচনা হয়।

আফসার আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলাও রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর মো. আব্দুল বারিক শেখের করা ওই মামলায় মোট ১০৯ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে আফসার আলী বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে বড় অঙ্কের অডিট আপত্তি

রেলের বর্তমান মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনের নাম সবচেয়ে বড়ভাবে সামনে এসেছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। ২০১৬ সালে একনেক সভায় প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই বছরের মধ্যেই ২০১৮ সালে ব্যয় বাড়িয়ে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা করা হয়।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি প্রস্তুত, ঠিকাদার নিয়োগ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। দরপত্র যাচাই না করেই চীনা ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে প্রকল্প ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে চীনা ঠিকাদারদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের হিসাবে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকার অনিয়মকে ‘গুরুতর’ ও ‘মীমাংসাযোগ্য নয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে ৫৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কম উচ্চতায় মাটি ভরাটের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকার ক্ষতি, বালুর স্তর কম ব্যবহার করে ২১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল, প্রকৃত কাজের চেয়ে বেশি কাজ দেখিয়ে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা পরিশোধ এবং বিশেষায়িত কাজ দেখিয়ে ১৭.১৫ শতাংশ বেশি দরে ইপিসি/টার্নকি চুক্তির মাধ্যমে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকায় নির্মাণযোগ্য এই স্টেশনে ১৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন কৌশলে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা-যশোর ১৭২ কিলোমিটার রেলপথে কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় ২২৫ থেকে ২২৮ কোটি টাকা বা প্রায় ২০ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে একই হিসাবে ব্যয় ছিল ৪৪ দশমিক ৭১ কোটি টাকা। এই তুলনায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক থেকে রেলের মহাপরিচালক

শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে কর্মকর্তা পদায়ন, কাজ বণ্টন এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল। শেখ রেহানার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ফরিদপুরের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় এবং কথিত শ্যালিকাসহ কয়েকজন নারী কর্মকর্তার নামও অভিযোগে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তার পদে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বরের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ফলে যে প্রকল্পে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে, সেই প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালকের পরবর্তীতে পুরো রেলওয়ের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের নিয়েও অভিযোগ

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে জমি অধিগ্রহণের সময় ভুয়া নথি ব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাদারীপুরে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

প্রকল্পে আফজাল হোসেনের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তার নামও বিভিন্ন অভিযোগে এসেছে। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া এর আগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে আফজাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া উপপরিচালক শামীমা নাসরিন (বীথি), ফারহানা সুলতানা, যুগ্ম সচিব মীর আলমগীর হোসেন, উপসচিব হোসনে আরা এবং পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের নামও অভিযোগের সঙ্গে এসেছে।

দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, ‘যে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করা হয়। কোনো মামলায় চার্জশিট আদালতে দাখিলের পর এর বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের এখতিয়ারে চলে যায়। তখন মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতই গ্রহণ করেন।’

রেলের কয়েকজন কর্মীর দাবি, আফজাল হোসেনের দায়িত্বকালে আনিসুর রহমান টিপু ও আফসার আলী বিশ্বাসকে ঘিরে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছিল। তাদের মতে, রেলের কাজ, বাণিজ্যিক বরাদ্দ এবং সম্পদ ব্যবহারের নথি পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে একই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম বারবার পাওয়া যায়।

শাহীনুর রহমান নামে এক অভিযোগকারী দাবি করেন, রেলের অনেক কাজ একই বলয়ের লোকজন পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকে সাহস পান না। অন্যান্য কর্মীরাও রেলের বিভিন্ন খাতের নথি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার মহাপরিচালকের

এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। রেলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। তবে আইনের বাইরে কিছুই হচ্ছে না।’

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ