
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট পরিচালনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে মহিউদ্দিন নতুন রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে আবারও অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী স্টাফ অফিসার হিসেবে মহিউদ্দিন পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন কর্মকর্তার স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রংপুর বিভাগের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ও তৎকালীন পরিচালক হাবিবুর রহমানের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফায়ার ফাইটার ও ড্রাইভার নিয়োগে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের সঙ্গে মহিউদ্দিন জড়িত ছিলেন। কেউ কেউ তাকে এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেও দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বরখাস্তের পরও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
নারী-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও মহিউদ্দিন বিভিন্নভাবে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তাদের দাবি, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকায় আগের মতো অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমেছে। এ কারণে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই চক্রের নেতৃত্বে মহিউদ্দিন রয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ ছাড়া বগুড়ার সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি।
ব্যবসা পরিচালনায় অবৈধ অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ
মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তার বাবা মোজাম্মেল হককে চেয়ারম্যান করে ‘ডিলিজেন্স অ্যাপিয়ারেন্স লিমিটেড’ নামে একটি তৈরি পোশাক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং এর অর্থের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি। ফলে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতো জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় মহিউদ্দিন ও তার কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তাদের দাবি, অতীতে নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত অনিয়ম, চাঁদাবাজি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

