
দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন, গোপন চুক্তি এবং প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. গোলজারে নবী। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগের আগে একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতিশ্রুতিমূলক চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে নিয়োগ সাধারণত জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত যোগ্যতা এবং নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। কিন্তু ড. গোলজারে নবীর পদোন্নতিকে ঘিরে ভিন্ন ধরনের প্রভাব ও আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে, যা ব্যাংকিং খাতে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে একটি লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, এই প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ কয়েক দশক কোটি টাকার সমপর্যায়ের।
ব্ল্যাংক চেক জমা দেওয়ার অভিযোগ
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কথিত আর্থিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কয়েকটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক জামানত হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, এসব চেকের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু একটি ব্যক্তিগত অনিয়মের ঘটনা হবে না; বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন তৈরি হলে তা পুরো আর্থিক খাতের ওপর আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. গোলজারে নবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পেশাগত পরিচিতি
ড. মো. গোলজারে নবী ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি গবেষণা বিভাগ, মনিটারি পলিসি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং চিফ ইকোনমিস্ট ইউনিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তদন্তের দাবি
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, দেশের আর্থিক খাতের সুশাসন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা জরুরি।

