বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬

হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, অ’নিয়ম ও দু’র্নী’তির অ’ভিযোগে তদন্তের দাবি

রাজধানীর হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ওই নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে একাধিকবার তা বাতিলের নির্দেশ দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, পদোন্নতি বাণিজ্য এবং কলেজ তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১২ জুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ স্থগিত করা হয়। তবে ওই নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ২০ মে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ইমরুল কায়েসকে দুই বছরের চুক্তিতে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা। এছাড়া অফিস পরিচালনা ব্যয় বাবদ কলেজ তহবিল থেকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়।

এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলেজের এক শিক্ষার্থী উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনার আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ সালে অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েসের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে কলেজের গভর্নিং বডিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয় এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে তিন সদস্যের একটি প্যানেল পাঠিয়ে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পুনরায় চিঠি দিয়ে বর্তমান নিয়োগ বাতিল এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে কলেজের একাংশ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, নিজের নিয়োগের বৈধতা রক্ষায় পরিচালিত আইনি লড়াইয়ের ব্যয় কলেজের সাধারণ তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভাউচার অনুযায়ী, রিট মামলার খরচ বাবদ একটি আইন ফার্মকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে, আবার নিয়ম উপেক্ষা করে পছন্দের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

স্টেশনারি সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্টেশনারি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের বাইরে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার সামগ্রী কেনা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) ইমরুল কায়েসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কলেজ তহবিল থেকে মামলার খরচ বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলাটি কলেজ-সংক্রান্ত হওয়ায় ব্যয় কলেজ থেকেই বহন করা হয়েছে। আর স্টেশনারি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা, আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত সিদ্ধান্ত কলেজটির প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ