
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটির গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গত পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আমানত উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান নিয়োগের পর প্রথম চার কার্যদিবসে গ্রাহকরা প্রায় ২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তী এক কার্যদিবসেই বিভিন্ন শাখা থেকে আরও এক হাজার কোটির বেশি টাকা তুলে নেওয়া হয়। ফলে মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। এর ফলে ব্যাংকটির মোট আমানত কমে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
তবে ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মোট আমানতের তুলনায় এ পরিমাণ অর্থ উত্তোলন তাৎক্ষণিকভাবে তারল্য সংকট সৃষ্টি করার মতো নয়। কিন্তু গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়া ব্যাংকটির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
গত ২৪ মে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগের পর একই দিনে মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একাংশ শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাংকের একটি অংশ মনে করছে, খুরশীদ আলমের দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমানত উত্তোলনের প্রবণতা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকলে এবং নতুন আমানত সংগ্রহে গতি কমে গেলে ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তোলনের পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নগদ অর্থ উত্তোলন করছেন নাকি অন্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করছেন, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রাহক সংগঠনের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, মো. খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ এবং ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোয় আরও সংস্কার আনা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তারল্য সংকট নয়, বরং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার। সেই আস্থা কত দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও স্থিতিশীলতা।

