
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সারওয়ার হোসেন নয়নের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, জমি দখল, প্রভাব বিস্তার এবং আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, স্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক লেনদেনের তথ্য নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারওয়ার হোসেন নয়ন চাকরি জীবনের শুরুতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে নিম্নপদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ তিনি সর্বশেষ পদোন্নতি পান বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী একটি বলয় তৈরি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিজমি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব জমির কিছু অংশ ক্রয় প্রক্রিয়া এবং মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জমি লেনদেনের ক্ষেত্রে দলিল, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেককে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনিয়মের শিকার হয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল বা কম মূল্যে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও বিচারিক সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নয়নের পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে সম্পদ নিবন্ধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু জমি নিয়ে আদালতে বিরোধ ও মালিকানা-সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দুদক-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ যদি বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের দায়িত্বও তদন্তকারী সংস্থার ওপর বর্তায়।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় জমি ও সম্পদকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মো. সারওয়ার হোসেন নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

