
মাসুদ চৌধুরী সাঈদ: প্রধানমন্ত্রীর ভূয়া এপিএস পরিচয়ে মানিকগঞ্জ ডিবির হাতে আটক। প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি দেওয়া, বদলি ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন তদবিরের নামে প্রতারণার অভিযোগে মানিকগঞ্জে দৌলতপুর উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
২২ মে শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত ভূয়া এপিএস আব্দুল্লাহ আল মামুন দৌলতপুর উপজেলার উয়াইল গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সাভারে জালেশ্বর এলাকায় থাকতেন। জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন স্থানে ভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১, পিএস, সাংবাদিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে নিজেকে জানান দিতেন। আর সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন সহযোগীতার আশ্বাস দিতেন।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, মামলা থেকে অব্যাহতি এবং নানা ধরনের তদবির করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মূলত সে জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার দালালি করতেন। আর এর আড়ালে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দেন বলে অভিযোগ ওঠে আসে।
এ ঘটনায় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সাধারণ ডাইরির ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাভারের রারিবাড়ী এলাকায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র, প্রেস সাইনবোর্ড লাগানো জিপ গাড়ি ও জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এর আগে চেক জালিয়াতিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

