বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

বিতর্কিত মামলার প্রসঙ্গের মধ্যেই ফেনীর এসপি হিসেবে নতুন দায়িত্ব

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনী জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলার অভিযোগ থাকায় এই পদায়ন ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, যুবদল কর্মী হত্যা ও ছাত্রদল নেতা গুমের মামলার আসামিকে জেলার শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা পদে বসানো অনাকাঙ্ক্ষিত। এ সিদ্ধান্ত বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ৬ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘ আট বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলম খান। ওই সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগে একাধিকবার তার নাম উঠে আসে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান হত্যা এবং তার ভাই ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। পরে ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আইনাল হক শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে মাহবুব আলম খানকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের আগস্টে ছাত্রদল নেতা সেতাউর রহমানকে না পেয়ে পুলিশ তার ভাই মিজানকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। একই সময়ে আরেক ভাই রেজাউল করিমকেও তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন নিখোঁজ রাখার পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় মিজান নিহত হন এবং রেজাউলের আজও কোনো খোঁজ মেলেনি।

এ ঘটনায় পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও গুম কমিশনেও অভিযোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর দায়ের হওয়া আরেকটি হত্যা মামলায়ও মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের ভাই ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সেতাউর রহমান বলেন, “যার বিরুদ্ধে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুমের অভিযোগ রয়েছে, তাকে পুরস্কৃত করে জেলার এসপি বানানো হয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, গুরুতর ফৌজদারি মামলার অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসনিকভাবে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব আলম খান বলেন, একটি মামলায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে এবং অন্য মামলার ঘটনার সময় তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন। যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করলে তিনিও আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ