বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

গণপূর্তের বদলী কার্যক্রম ও পে-অর্ডার ইস্যুতে আলোচনায় প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক বদলী কার্যক্রমে অনিয়ম এবং আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন এবং বদলী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একদিনেই অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলী আদেশ জারি করা হয়, যা প্রচলিত নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিশেষ করে এমন কর্মকর্তাদেরও বদলী করা হয়েছে, যারা নির্ধারিত সময় পূর্ণ না করেই কর্মস্থল পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পছন্দের পদে পদায়নের জন্য আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তাকে চাপের মুখে রাখতে ঘনঘন বদলির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি নজরে এলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বেশ কিছু বিতর্কিত বদলী আদেশ স্থগিত করা হয়।

এর আগেও সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে একটি আলোচিত ঘটনা রয়েছে। গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কাশিমপুর কারাগার-২–এর একটি প্রকল্পে ঠিকাদারের জমা দেওয়া ১০ লাখ টাকার পে-অর্ডার নিয়মবহির্ভূতভাবে নগদায়নের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গঠিত তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় অসদাচরণের প্রমাণ পায়। এ নিয়ে বিভাগীয় মামলা হলেও পরবর্তীতে একটি অফিস আদেশে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যেখানে এটিকে তার চাকরি জীবনের প্রথম অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কতার ভিত্তিতে ক্ষমা করা হয়েছে।

বর্তমান অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুদক ইতোমধ্যে সারোয়ার জাহান এবং সংশ্লিষ্টদের সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগকারী পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাব্য বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে মন্ত্রণালয় বদলী ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন থেকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের তদারকি ছাড়া এগোবে না বলেও জানানো হয়েছে।

যদিও সারোয়ার জাহান তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রতিবেদনগুলো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ