বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

আবার আলোচনায় রূপপুরের ‘বালিশ–কাণ্ড’, প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে অডিট রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি অডিট প্রতিবেদনে আবারও উঠে এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বহুল আলোচিত ‘বালিশ–কাণ্ড’। ৫ মে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের এসব অডিট রিপোর্ট পেশ করেন মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনে রূপপুর প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে একটি বালিশের দাম প্রায় ৬ হাজার টাকা এবং সেটি ভবনের কক্ষে পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত মজুরি দেখানোর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্টের সঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের আলোচিত এই অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদনও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে একটি বালিশের অস্বাভাবিক মূল্য দেখে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, “এই বালিশ জাদুঘরে রাখা উচিত।”

অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক ভবনের জন্য প্রায় ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং একটি বালিশ খাটে তুলতে মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। এছাড়া কভারসহ একটি কমফোর্টারের দাম দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা, যা বাজারদামের তুলনায় অনেক বেশি। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদরের দামও বাজারমূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

২০১৯ সালে প্রথমবার রূপপুর প্রকল্পের এই ব্যয় নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে এটি ‘বালিশ–কাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায় এবং সরকারি প্রকল্পে ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

অডিট রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ