
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেতু ও কালভার্ট প্রকল্পে কর্মরত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের কার্যসহকারীদের চাকরি রাজস্বকরণের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আব্দুল মতিনের নাম সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত কার্যসহকারীদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করেন আব্দুল মতিন। অভিযোগ রয়েছে, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তিনি নিজেকে ওই সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দিয়ে কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে ‘প্রশাসনিক তদবির’ এবং ‘মামলা পরিচালনা’সহ বিভিন্ন কারণে অর্থের প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতি উপজেলা থেকে কর্মরতদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে সারা দেশ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে চাকরি রাজস্বকরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, স্থায়ী চাকরির আশায় অনেকেই ধার-দেনা করে অর্থ প্রদান করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে আশ্বাস দিতেন। এ সংক্রান্ত অডিও প্রমাণ থাকার দাবিও করেছেন তারা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুল মতিনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

